ব্রেকিংসম্পাদকীয়স্লাইডার

মোবাইল ফোনের কলরেট

মোবাইল ফোন এখন আর বিলাসিতা নয়। প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ হিসেবেই জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে এই ডিভাইস। শহরের উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে গ্রামের প্রান্তিক মানুষটিও এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। শুধু পারস্পরিক যোগাযোগ নয়, বহুমুখী ব্যবহার মোবাইল ফোনের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে। ইন্টারনেট সংযোগ থেকে শুরু করে মোবাইল ব্যাংকিং—সব ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে গণমাধ্যম—সবাই এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায়। আগে শুধু কথা বলা বা খুদে বার্তা পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এখন চিকিৎসকের পরামর্শসেবা থেকে শুরু করে ই-কমার্সের নতুন নতুন দিগন্তও খুলে দিচ্ছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর করে। বহুমুখী ব্যবহারের কারণেই মোবাইল ফোন জনপ্রিয় হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাহককে আকৃষ্ট করার জন্য নতুন নতুন অফার আসছে মোবাইল ফোন কম্পানিগুলোর কাছ থেকে। এ অবস্থায় মোবাইল ফোনের কলরেট সমন্বয় করতে গিয়ে গ্রাহকস্বার্থ সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিতে হবে।

কলরেট সমন্বয়ের ব্যাপারে মোবাইল ফোন কম্পানিগুলোর যুক্তি একটাই, তা হচ্ছে মোবাইল ফোনের ট্যারিফ বিশ্বের যেসব দেশে সবচেয়ে কম, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। এতে ক্ষতি কোথায়? বরং বাংলাদেশ তো গর্ব করে বলতে পারে, কম মূল্যে একটি প্রয়োজনীয় সেবা দেশের জনগণের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কলরেট কম বলেই তো দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাহক মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে যেসব মোবাইল ফোন কম্পানি সেবা দিচ্ছে, সেগুলোর সবার গ্রাহকসংখ্যা সমান নয়। কলরেট বাড়লে দেখা যাবে হাতে গোনা একটি বা দুটি কম্পানি লাভবান হচ্ছে। অন্যদিকে কম গ্রাহক যাদের, এমন কম্পানি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে দেশের মোবাইল ফোন কম্পানি এ থেকে লাভবান হবে কি না তা বিবেচনা করতে হবে। সমন্বয় অর্থ কলরেট কমানো বা বাড়ানো। সে ক্ষেত্রে কলরেট বাড়ালে তা থেকে রাজস্ব হয়তো কিছুটা বাড়বে, কিন্তু তাতে নির্বাচনের আগে সরকারের জনপ্রিয়তায় ধস নামবে কি না, সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। কলরেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে কতটা যৌক্তিক হবে, সেদিকেও সবার দৃষ্টি থাকতে হবে।

মানুষের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন নিয়ে নতুন করে ভেবে দেখার সময় এসেছে। কলরেট না বাড়িয়ে গ্রাহকসংখ্যা বাড়ানোর দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। কলরেট বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। কাজেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভাবতে হবে। কোনো কম্পানি নয়, সিদ্ধান্ত হতে হবে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close