নির্বাচিত কলামব্রেকিংস্লাইডার

বাংলা হোক বঙালির প্রাণের ভাষা

পৃথিবীর ইতিহাসে আজও পর্যন্ত এমন কোন নজির সৃষ্টি হয়নি।মাতৃভাষার জন্য কোন মানুষ আকাতরে তার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে পারে।ভাষাপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে বুলেট বোমার সামনে বুকটান করে দাঁড়াতে পারে।মায়ের ভাষাকে রাষ্টভাষার দাবিতে পিচঢালা রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করতে পারে।মাতৃভাষার জন্য শত সহস্র কষ্ট ব্যথা সহ্য করতে পারে।একটি ভাষার জন্য নির্ধিধায় মৃত্যেুকে হাসি মুখে বরণ করে নিতে পারে।শুধুমাত্র এমন মর্যদাপূর্ণ নজির বীর বাঙালিরাই বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে।দেখিয়েছে মাতৃভাষার প্রতি বাঙালি জাতির কতো প্রেম,
ভালোবাসা।কতো মায়া মমতা।
সৃষ্টির সেরা মানব জাতির জন্য ভাষা হলো আল্লাহর সেরা দান।পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকে যুগে যুগে আল্লাহ অসংখ্য নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন।সেই সব নবী রাসূলগণ তাদের স্বজাতি বা গোত্রের মানুষদের কে আপন আপন ভাষায় দাওয়াত পৌছে দিতে বলেছেন।তাই প্রত্যেক জাতির জন্যই তাদের মাতৃভাষা মহান আল্লাহ্ প্রদত্ব এক বিশাল নেয়ামত।

ঠিক তেমনি বাঙলি জাতি গোষ্ঠির জন্যও বাংলা ভাষাটা তথা মায়ের ভাষা আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ট নেয়ামত।কিন্তু এই নেয়ামত কে যখন চিনিয়ে নিতে পশ্চিমারা নানান ফন্দি ফিকির শুরু করে দিল।জোড় করে অন্য একটি ভাষা বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দিতে চাইল।ঠিক সেই সময় এর প্রতিবাদে বাংলা মায়ের সূর্য সন্তানরা রাগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল ১৯৫২ সালে।মিছিল মিটিং করে ‘মাতৃভাষা বাংলা চাই’ শ্লোগানে শ্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলেছিল।ভাষাপ্রেমে উদ্ভোদ্য হয়ে জীবনের মায়া মমতা ত্যাগ করেছিল।বুলেটের সামনে বুক পেতে। রাজপথ রক্তে রঞ্জিত করে।মাতৃভাষার সম্মান মর্যাদেকে ফিরিয়ে এনে ছিলো সালাম,বরকত,রফিক,সফিউল,জব্বার।যাদের অত্মত্যাগের কথা আজও বাঙালি ভুলতে পারে না।যদের কথা আজও বাঙালিজাতি পরম শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে থাকে।ভাষা শহীদদের জন্য গর্বে বুক ভরে যায়।কবি সহিত্যিকরা রচনা করে অসংখ্য ছড়া কবিতা গান।শিল্পরা শ্রদ্ধাভরে গেয়ে যায়,
সালাম সালাম হাজারো সালাম বীর শহীদদের স্বরণে।

কিন্তু আজ বড়ই আফসোস আর পরিতাপের সাথে বলতে হচ্ছে।যে ভাষার জন্য বুকের তরতাজা রক্ত ঢালতে হলো।যে ভাষার জন্য বাংলার সাহসী সন্তানেরা জীবন দিয়ে ভাষার সম্মান রক্ষা করলো।আমাদের সেই মতৃভাষা বাংলা কে আমরা কতোটুকু গুরুত্ব দিয়ে থাকি?ব্যাক্তি পরিবার সমাজ রাষ্ট জীবনে বাংলা ভাষার প্রতি কতোটুকু ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাই?আমার কষ্ট হয় লজ্জাবোধ করি।শুধু ভাষার মাস এলেই আমরা ভাষাপ্রেমে লাফালাফি দাপাদাপি করি।বাকী এগারোটি মাস ভাষার কথা মনে থাকেনা।কথাবার্তায় চালচলনে ভাষার ব্যবহার করতে স্বরণ থাকেনা।
যেখানে সেখানে আমরা পরদেশি ভাষা ইংরেজি কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি।পরদেশি ভাষায় নিজেকে জাহির করার চেষ্টা চালাই।আমাদের সন্তানদের কে ইংরেজি ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করার জন্য ভুরিভূরি টাকা খরচ করি।বাংলা আমাদের রাষ্টভাষা হলেও প্রতিটি অফিস আদালতে আজো ইংরেজি ভাষাটাকেই প্রাধান্য দিয়ে চলছি।এই কী আমাদের ভাষা প্রেম!আর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা!

ভাষা বিকৃতির কথা কি বলবো।আমাদের দেশে বেঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠে অসংখ্য রেডিও চ্যানেলের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই সে বিষয়টি সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।মাতৃভাষার প্রতি ওদের সম্মান দরদ বলতে গেলে শূণ্যের কোটায়।ওরা নিজেরাতো ভাষার বিকৃতি ঘটাচ্ছেই।আবার আমাদেন আগামী প্রজম্নকে সুন্দর সুচারু রূপে ভাষা বিকৃতির প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।এসব দেখেও কারো মুখে টু শব্দটি পর্যন্ত নাই।অভাক হতে হয় যে,ভাষার মাস এলেই ওরা ভাষাপ্রেমের কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলে।রাষ্টের আমলা বুদ্ধিজীরাও বিভিন্ন মঞ্চে বা টকশোতে ভাষাপ্রেমের খই ফুটায়।ওদের এমন অলিক ভাষাপ্রেম দেখে ভাষা শহীদদের আত্মারা হয়তো দুঃখ কষ্ট লজ্জায় ঘুণায় ধিক্কার জানাচ্ছে।অশান্তিতে কাটাচ্ছে ভাষা শহীদদের আত্মারা।

নিজ দেশে বাংলা ভাষা যখন পরবাসী হয়ে নীরবে নিভৃত্বে ব্যথা বেদনায় কুঁকড়াচ্ছে।অনাদর অবহেলায় দিনাতিপাত করে যাচ্ছে।অপমান ঘৃণা লজ্জায় মুখ লুকাচ্ছে।আমরা তখন ভাষাপ্রেমী সেজে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছি।মহান মাওলার দরবারে দু’হাত তুলে ভাষা শহীদদের মাগফিরাত কামনা না করে শুধু ফুলের পেছনে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে যাচ্ছি।যুবক যুবতী একসাথে নেচে গেয়ে ভাষা এবং ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।হায়রে বাঙালি!হায়রে ভাষাপ্রেমী!

পরিশেষে আমি বলতে চাই।আসুন আমরা সবাই মিলে মায়ের ভাষা বাংলাকে সত্যিকারে প্রেম ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরি।ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্টের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার সঠিক প্রয়োগ ঘটানোর আপ্রাণ চেষ্টা করি।ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানাতে আল্লাহর দান বাংলাভাষার সম্মান মর্যাদাকে সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট হই।আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে শহীদি আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

লেখক:আনিসুর রহমান:মালয়েশী প্রতিনিধি,প্রবাসীকাল ডটকম

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close