ব্রেকিংসম্পাদকীয়স্লাইডার

নারী উন্নয়ন ও কিছু মৌলিক বাস্তবতা

ফ. ই. ম. ফরহাদ

কর্মক্ষমতা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বিচার করেইতো পুরস্কার দেয়া উচিত, নয় কি? এ ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ আছে কি?

নোবেল প্রাইজের ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান তেমন ভাল নয় বলে পত্রিকায় এসেছে। পত্রিকার ভাষা এমন যেন নারীদের যোগ্যতা ছিল কিন্তু তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। অনেকে আবার এ বিষয়ে কোটা প্রথা করে নারীদের সামনে আনারও পক্ষপাতি।

আমার কথা হল সৃষ্টিগত ভাবেই নারীরা পুরুষের চেয়ে কম ক্ষমতার অধিকারী। শারীরিক ও মানসিক সকল দিক থেকেই। কিন্তু যারা যোগ্যতা নিয়ে সামনে আসে তাদেরকে অবশ্যই স্বাগত জানাতে হবে। আর নোবেল কমিটি তা করতে পিছপা হয়নি।

বলে রাখা দরকার যে আমি নোবেল কমিটির কেউ নই। তাদের পক্ষে সাফাই গাওয়াও আমার উদ্দেশ্য নয়। আমার কথা হল এখন পর্যন্ত যে সকল নারীরা নোবেল পেয়েছেন তা তাদের যথাযথ যোগ্যতার ভিত্তিতেই পেয়েছ্ন। কোটার মাধ্যমে নয়।

কথা শুরু করেছিলাম যোগ্যতার বিষয়ে। যথযথ যোগ্যতা না থাকলে শুধু কোটা প্রথা করে যদি নারীদের সামনে আনা হয় তাহলে এক সময়তো চরম বিপর্যয় দেখা দেবে।

একই পরিবারে জন্মগ্রহণ করা একটি ছেলে এবং মেয়েকে বড় হয়ে কি হতে চাও প্রশ্ন করলে বিশাল ব্যাবধানের উত্তর পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে ছেলেরা যতটা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে কথা বলে একটা মেয়ে কিন্তু তা পারে না। কারণ তারা সৃষ্টিগত ভাবেই এমন।

গত কিছুদিন আগে বাংলা নাটকের একটি ক্লিপ খুব ভাইরাল হয়। কমেডি ধাঁচের নাটকটিতে একটি কলেজের শ্রেণী কক্ষের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষিকা ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখলেন পড়াশুনা শেষ করে কে কি করতে চাও? সবাই বিভিন্ন উত্তর দিলেও একটি মেয়ের উত্তর ছিল বিয়ে করতে চাই। বিষয়টি শুনে শিক্ষিকা বেশ মর্মাহত হলেন।

আমি মনে করি এটা শুধু ঐ মেয়েটির উত্তর ছিল না এটা ছিল পুরো বিশ্বের অধিকাংশ নারীদের উত্তর। কারণ সৃষ্টগত ভাবেই তারা এমন বৈশিষ্টের অধিকারী। বড় ধরনের কোন এইম নিতে পারে না।

কিশোর বয়সে একটি ছেলে অবসর সময়টা যখন ডানপিটে করে বেড়ায় একই বয়সী মেয়েটি তখন সাজগোজে ব্যস্ত। সদ্য হাটতে আর কথা বলতে শেখা ছেলে বাচ্চাটি দৌড়ায় বলের পেছনে আর মেয়েটি তখন পুতুল খেলায় ব্যস্ত। অথচ পিতা মাতা কিন্তু কাউকেই কিছু শিখিয়ে দেন নি। এটা যার যার প্রকৃতিগত স্বভাব।

আমার কথা হল নিজের ভেতর থেকে সামনে আসার চিন্তা না আসলে জোর করে কোটা প্রথা আর স্পেশাল গ্রাচুইটি দিয়ে লোক দেখানো নারী উন্নয়নই কেবল সম্ভব, আসল মৌলিক উন্নয়ন সুদূর পরাহত। উন্নয়ন যদি হতেই হয় তা প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকেই হওয়া উচিত কোটা প্রথা করে নয়।

লেখক: কবি, লেখক ও কলামিস্ট
সিনিয়র সহ সভাপতি, মদিনা সাংবাদিক পরিষদ।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close