মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ৩১ ভাদ্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম

একুশ নিয়ে আমরা গর্ব করি

আবু তাহের মিয়াজী | ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১:০৫ অপরাহ্ন

একুশ নিয়ে আমরা গর্ব করি

প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি যেমন ইতিহাসের সেই গৌরবোজ্জ্বল সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তেমনি আমাদের আত্মজিজ্ঞাসার মুখোমুখি দাঁড় করায়। পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামীন এরশাদ করেন: আমি সব রাসূলকেই তাদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিস্কার করে বুঝাতে পারে।’ (সূরা ইব্রাহীম:৪ )মানুষের সাথে মানুষের ভাব বিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম ভাষা। শুধু মানুষ কেন সৃষ্টি জগতের সকল প্রাণীদের মাঝে একে অপরের সাথে কুশল বিনিময়ের মাধ্যম ভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে পৃথিবীতে এমন ইতিহাস বিরল।পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মায়ের ভাষায় কথা বলার দাবি প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েন এ দেশের দুঃসাহসিক শিক্ষক-ছাত্র, জনতা। ফেব্রুয়ারির মাস এলেই বাতাসে ভেসে আসে একুশের গন্ধ। একুশ মানে অমর একুশে। একুশ মানে একুশে ফেব্রুয়ারি, রক্তের অক্ষরে লেখা একটি ইতিহাস।বাঙালি জাতি সত্যিকার অর্থেই ভোলেনি ভাষা শহীদদের। তাইতো সময়ের আবর্তে ৬৬ বছর পর আবার যখন আমাদের জীবনে ফিরে আসে ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি তখন সমগ্র জাতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানায় শহীদ ভাষা সৈনিকদের প্রতি।

 


১৯৫২ সালে পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে জীবন উৎসর্গ করেন বরকত, সালাম, রফিক, জব্বার, শফিকসহ নাম না জানা অসংখ্য দেশপ্রেমিক। ভাষা আন্দোলনেই রচিত হয় একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকা। এরই ধারাবাহিতায় বাঙালির গৌরবময় অর্জন হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।তাই একুশ নিয়ে আমরা গর্ব করি। একুশের জন্যই ফেব্রুয়ারির প্রতি আমাদের এত ভালোবাসা, এত শ্রদ্ধা। মানবজাতির জন্য স্রষ্টাকে চেনার এক অপূর্ব নিদর্শন। আল্লাহ বলেন, তাঁর আরও এক নিদর্শন হচ্ছে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সৃজন এবং তোমাদের ভাষা ও বর্ণের বৈচিত্র। নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।’ (আররূম:২২) একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে। ২০০০ সালে আমাদের এ গৌরবের মাস পায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। একুশে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার মর্যাদা পেলেও বাংলাদেশের দাফতরিক ভাষা হিসেবে উপেক্ষিত! অতএব,আমাদের উচিৎ ভাষার জন্য জীবন দানকারী বীর সন্তানদের শাহাদাৎ কবুলের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করা, তাদের নামে দান-সাদাকাহ্ করা, তাদের পরিবারের পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। তাহলেই কেবল শহীদদের আত্মা শান্তি পেতে পারে, অন্যথায় নয়।

লেখক: আবু তাহের মিয়াজি,দোহা কাতার প্রতিনিধি,প্রবাসীকালডটকম


বাংলাদেশ সময়: ১:০৫ অপরাহ্ন | বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

প্রবাসীকালডটকম | প্রবাসে দেশের প্রতিচ্ছবি |

advertisement

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

০১ ডিসেম্বর ২০১৬

advertisement
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
advertisement

সম্পাদক : যাকারিয়্যা মাহমূদ

নির্বাহী সম্পাদক : শাহাদাত হুসাইন

বার্তা সম্পাদক : এস এ রুবেল


phone : +966534923608, +966551957380, +8801912-392439 | E-mail : newsprobasikal@gmail.com, editorprobasikal@gmail.com

©- 2020 প্রবাসীকালডটকম | প্রবাসে দেশের প্রতিচ্ছবি all right reserved