ইসলামব্রেকিংস্লাইডার

শয়তানের ফাঁদ!

মানুষ তখনি হতাশায় নিমজ্জিত হয় এবং অপমানিত হয় যখন সে আল্লাহ তার রাসুল (সাঃ) এর দেখানো পথে না চলে নিজের নফছের তাবেদরী করে।

দুনিয়াবি ক্ষণিকের সুখের আশায় একটু আত্মতৃপ্তির জন্য আমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছি। যদিওবা বুঝতে পারতেছি এটা সঠিক পথ নয়। তথাপিও আমরা/ আমি কি করি নিজের মনগড়া একটা যুক্তি দাড় করিয়ে নেই। আর সেটাকে সহি বা হালাল করার প্রাণান্তর চেষ্টা চালিয়ে অবান্তর যুক্তি খুজতে থাকি। আল্লাহপাক যা আমার জন্য নির্দ্ধারিত করেননি, তা পাওয়ার জন্য যদি আমি জোরপূর্বক হালাল বানিয়ে দুনিয়াবি সামান্যা সুখের আশায় আখেরাতকে বিসর্জন দিয়ে দেই। তাহলে কি তার পরিণাম আমার জন্য সুখ বয়ে নিয়ে আসবে? নিশ্চয়ই না। কারন এখানে মিথ্যাকে সত্যের আবরণে আচ্ছাদিত করে হারামকে হালাল করার চেষ্টা করতেছি। আল্লাহর সন্তোষ্টি অর্জন করা খুবি সহজ। যদি আল্লাহ তাঁর রাসুল (সাঃ) এর দেখানো পথ আমরা সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারি।

পবিত্র কুরআনমজিদে আল্লাহতালা বারবার ঘোষণা করেছেন, তোমরা শয়তানের পথ অনুসরণ করো না,শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। অথচ আমরা প্রতিনিয়ত শয়তানের দেখানো চাকচিক্যময় পথে চলতে পছন্দ করি।

শয়তান প্রতিটি মানুষের চরিত্রনুযায়ী বেশ ধারণ করতে পারে! সাধুর কাছে সাধুর বেশে, চোরের কাছে চোরের বেশে। অর্থাৎ যে, যে ধরণের চরিত্রের অধিকারী শয়তান ঠিক সেই ধরণের চরিত্রে রুপান্তরিত হয়। এবং প্রতিটি মানুষের শিরায় শিরায় সে চলাচল করে।

বাবা আদম(আঃ) থেকে ধরে এপর্যন্ত শয়তান তার কাজগুলো সুনিপুণ ভাবে চালিয়েই যাচ্ছে। আর আমরা দুর্বল ঈমানের অধিকারী যারা খুব সহজে বিতাড়িত শয়তানের পাতানো জালে ঢুকে পড়ি। কারণ তার পাতানো ফাঁদটি থাকে নিখুঁত, সুন্দর, সাজানো গোছানো এবং আকর্ষণীয়। তুমি যতবড় আমলদার আর ইলেমদার হউনা কেন তার পাতানো ফাঁদে বিভ্রান্ত হবেই হবে। যেভাবে হয়েছিলেন হযরত আদম (আঃ) ও হযরত বিবি হাওয়া। শয়তানের ধোকায় পড়ে তাঁদেরকে পৃথিবীতে আসতে হলো। আর সেইসাথে আমরাও চলেছি তাদের অনুসারী হয়ে।

মহান ‘রব’ তাঁর বান্দাকে এতটাই ভালোবাসেন যে, বান্দা বারবার পাপ করে যখনি অনুসূচনায় অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চায় মহান আল্লাহ তখন তাকে মাফ করে দেন।
দুর্ভাগ্য সেসব লোকদের, যারা পাপের পথে চলতে চলতে সেই পাপ পথকেই মসৃণ ভাবতেছে। বীরদর্পে অভিরাম চলতেই আছে। তার শেষ পরিণতিটা যে কতটা অমসৃণ সেটা তার বোধগম্য নয়।

আমাদের অদক্ষতার জন্য আমরা পাপ পুণ্যের পার্থক্য করতে পারিনা। কারণ শয়তান পাপের কাজটাকে এত সুনিপুণ ভাবে পুণ্যের আবরণ দিয়ে মানুষের চোখে তুলে ধরে, তখন পাপের কাজকে মনে হবে পুণ্যের কাজ, আর পুণ্যকে পাপ মনে হবে।

আমরা যখন পাপকে পুণ্য মনে করে একি কাজ বারবার করতে থাকি। তখন আল্লাহতালা তার বান্দার অন্তরের বিরাজমান অবস্থার কথা অবহিত থাকেন। তাই বান্দাকে সচেতন করার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ফেলেন।

যেমন,উদাহরণ স্বরূপ একব্যক্তি আল্লাহর সন্তোষ্টির আশায় কাউকে ভালবাসলো।এবং তার সুখে দুঃখে তার পাশে দাঁড়ালো।

দেখা গেল যখনি ঐ ব্যক্তি তার পাশে দাঁড়িয়েছে। যে কোন সংকটাপন্ন অবস্হায় অকাতরে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠিক তখনি যে কোন অজুহাতে তার সাহায্যপ্রাপ্ত বন্ধুটি তার হিতাকাঙ্খী বন্ধুটিকে ইনসাল্ট বা অপদস্থ করে। যেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। প্রতিবারই এমনটা হচ্ছে। তাহলে এটা কিসের ইংগিত বহন করে।

নিশ্চয় আল্লাহতালা বারবার তাকে অপদস্থ করে এটাই বুঝাতে চাচ্ছেন, যে তুমি যেটাকে পুণ্য ভেবে করতেছ তা হয়তো সঠিক নয়।সচেতন হও এপথ পরিহার করো। ভুল পথে বারবার কম্প্রোমাইজ করে আল্লাহকে পাওয়া যায় না। যেখানে এসব সহযোগিতা করার পরে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হওয়ার কথা সেখানে কেন প্রতিবার ই নির্মমতা এসে হানা দেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ যা জানেন জিন ইনসান তা জানে না। আর আল্লাহতালা সবসময় তাঁর বান্দার মংগল চান এটাই সত্য।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুণ, এবং তার নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক দান করুণ।

ডাঃ শাহনাজ পারভীন
লেখক ও গবেষক

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close