ব্রেকিংসম্পাদকীয়স্লাইডার

তবে কি ইসরাইল তার শেষ পরিণতির দিকেই ধাবিত হচ্ছে?

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ এবং প্রথম কেবলা বাইতুল মাকদিস। পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলিমের হূদয়ের স্পন্দন মসজিদুল আকসা। কুরআন ও হাদীসে মসজিদুল আকসা জেরুজালেমের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য আরও ব্যাপকতা পেয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “পরম পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি স্বীয় বান্দাকে রাত্রিবেলায় ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত, যার চারদিককে আমি বরকতময় করেছি, যেন তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখিয়ে দিই”। (বনী ইসরাইল-১)।

রাসূল সা. মক্কার মসজিদুল হারাম, মদীনার মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকসার উদ্দেশ্যে সফর করাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, যা অন্য কোনো মসজিদ সম্পর্কে করেননি। তিনি বলেছেন, “তোমরা তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদে সফর করো না, মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদে আকসা”। (বুখারী ও মুসলিম)।

হযরত ইবরাহীম আ. কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হযরত ইয়াকূব আ. জেরুজালেমে আলআকসা মসজিদ নির্মাণ করেন। অতঃপর হযরত সুলায়মান আ. তার সময়ে এ পবিত্র মসজিদের পুনর্নির্মাণ করেন।

৬৩৮ ইসায়ী সাল। মুসলিম সেনাবাহিনী জেরুজালেমে হানা দেয়। সাইফুল্লাহিল মুখতার বীর খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রা. এবং প্রসিদ্ধ সাহাবী আমর ইবনুল আস রা. এর নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী পুরো শহর পরিবেষ্টন করে ফেলে। তখন জেরুজালেমের প্রশাসক ছিলেন বাইজেন্টাইন সরকারের প্রতিনিধি সোফ্রোনিয়াস। তিনি ছিলেন স্থানীয় গীর্জার প্রধান যাজক। মুসলিম বাহিনী কর্তৃক জেরুজালেম অবরোধ করার পর সোফ্রোনিয়াস এই অদ্ভুত শর্তারোপ করেন যে, মুসলিমদের খলিফা নিজে নিজে এসে আত্মসমর্পণ গ্রহণ না করলে আমরা আত্মসমর্পণ করবোনা। এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে হযরত উমর রা. একাই একটি উট এবং একজন চাকরকে সঙ্গে নিয়ে মদীনা ছেড়ে জেরুজালেমের উদ্দেশে যাত্রা করেন। জেরুজালেমে যাজক সোফ্রোনিয়াস তাঁকে স্বাগত জানান।

তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মুসলিম খলিফা হযরত উমর রা. এর খুব সাধারণ পোষাক ও চাকচিক্যহীন জীবন যাপন দেখে সোফ্রোনিয়াস খুবই বিস্মিত হন। সোফ্রোনিয়াস হযরত উমর রা. কে পুরো শহর ঘুরিয়ে দেখান। নামাযের সময় হলে সোফ্রোনিয়াস তাঁকে গীর্জার ভেতরে নামায আদায় করার আমন্ত্রণ জানান, কিন্তু উমর রা. তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যদি তিনি সেখানে নামায আদায় করেন তাহলে পরবর্তীতে মুসলিমরা এই অজুহাত দেখিয়ে গীর্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করবে যা খ্রিস্টান সমাজকে তাদের একটি পবিত্র স্থান থেকে বঞ্চিত করবে। পরে তিনি গীর্জার বাইরে নামায আদায় করেন।

৪৬১ বছর পর। ১০৯৬ সালে খ্রিস্টান ক্রুসেডাররা গোটা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেয়ার পর বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গির্জায় পরিণত করে।

১১৬৯ সালের ২৩ মার্চ। ফাতেমী খিলাফতের কেন্দ্রীয় খলীফার নির্দেশে সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী গভর্নর ও সেনাপ্রধান হয়ে মিশরে আগমন করেন। মাঝে জেরুজালেম খ্রিস্টানদের দখলে থাকে ৮৮ বছর। ৮৮ বছর পর ১১৮৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মুসলিম বীর গাজী সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবীর হাতে অত্যন্ত লজ্জাস্কর ভাবে ক্রুসেদাররা পরাজিত হয়। এবং জেরুজালেম অঞ্চলে গাজী সালাহুদ্দীন মুসলমানদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে খ্রিস্টানরা হেরে গেলেও যায়নবাদী কুচক্রী ইহুদিরা দমে যায়নি। তারা ফিলিস্তিন থেকে শুরু করে সুদূর মদীনা পর্যন্ত বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।

এখন ২০১৭ সাল। ডিসেম্বর মাস। কাঁটায় কাঁটায় হিসেব করলে ১০০ বছর আগের কথা। ১৯১৭ সালের ডিসেম্বর মাস। বিপর্যস্ত ওসমানীয় খেলাফতের শেষ নিঃশ্বাসটুকু আসা যাওয়া করছে। শত শত বছরের গৌরবময়  ইতিহাস, ঐতিহ্য, অবদান আর দুর্দান্ত  প্রভাব-প্রতিপত্তি ও তার শৌর্যবীর্য তো হারিয়েছে অনেক আগেই। হেরেমে শরাব ও সফেদ উলঙ্গ নারীদের বগলদাবা করা খেলাফতের অযোগ্য,, অদক্ষ স্বেচ্ছাচারী সুলতানদের কারণে এক এক করে নিজেদের গুটিয়ে নিয়ে খেলাফতের বাইরে পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করছে আরবরা।

১৯১৭ সালের এই সময়ে বৃটিশরা উসমানীয়দের হাত থেকে জেরুজালেমকে জোরপূর্বক দখল করে নেয়। জেরুজালেম দখলের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সেনাপতি জেনারেল এ্যাডম্যান্ড এ্যালেনবি।  সেদিন জেনারেল এ্যাডম্যান্ড বাইতুল মাকদিস ও জেরুজালেমের পবিত্রতার প্রতি সম্মান দেখিয়ে মসজিদুল আকসার ভেতরে খালি পায়ে প্রবেশ করে ছিলেন। বোধয় বাইতুল মাকদিসকে সর্বশেষ সম্মানটুকু এই জেনারেলই করেছিলেন। বিগত শত বছরে এরপর আর তার উত্তরসূরিদের মধ্যে এ সম্মান দেখা যায়নি। মুসলিমদের প্রথম কিবলা পবিত্র এই স্থান এখন অভিশপ্ত ইহুদিদের ঘোড়ার আস্তাবল, ,নাচ গান ও খেলাধুলার ঊম্মুক্ত আসরে পরিণত হয়েছে।

বিগত ১০০ বছর ধরে জেরুজালেম নিয়ে লড়াই চলছে। প্রায় একহাজার বছর ধরে চলছে আলকুদস নিয়ে টানাটানি। তাওহীদবাদী মুসলিম ও কুচক্রীবাদী ইহুদি আর সাম্রাজ্যবাদী ক্রুসেডার খ্রিস্টানদের এই লড়াইয়ে অন্যান্য পৌত্বলিক ও নরেশ্বরবাদীরাও তাদের সরব উপস্থিতি জানান দেওয়ার চেষ্টা কম করেনি। রোমানদের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই পবিত্র ভূমির সুদীর্ঘ উপাখ্যান। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৭ই ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকল আহবান অগ্রাহ্য করে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে।

ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিঃসন্দেহে বিশ্বমুসলিম হৃৎপিণ্ডে শেষ ও চরম আঘাত! এ আঘাত সহ্য করা কোন ঈমানাদার মুসলিমের পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। আমার অন্তরও ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। আমি আজ বাকরূদ্ধ! হাজার বছরের লড়াইয়ের পর চূড়ান্ত হারাটা আজ আমাদেরই হারতে হলো। দখলদার ইহুদি ও সাম্রাজ্যবাদী ক্রুসেদাররাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের মালাটি ছিনিয়ে নিলো।

সুতরাং জেরুজালেম বহু আগেই আমরা হারিয়েছি। এটা নিয়ে নতুন করে তবলা বাজানোর খুব দরকার আছে বলে মনে হয়না। যা হারানোর তাতো শত বছর আগেই হারিয়েছি। এখন শুদু সেটার একটা অনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হলো। ট্রাম্পের পর এখন হয়তো অন্যরাও স্বীকৃতি দিতে শুরু করবে। এতে আশ্চর্যের কিছুই নেই, অসময়ের ক্রান্তিকালে নিপতিত সময় অন্তত তাই বলছে।

ইহুদীরা একটি যাযাবর জাতি। হটকারিতা বিশ্বাসঘাতকতা  ও আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টের অভিযোগে এই অসভ্যদের রাসূল সা. খাইবার অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করেছিলেন। এরপর থেকেই এরা পৃথিবীর আণাচে কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোথাও স্থায়ী হতে পারেনি। যেখানেই এরা গিয়েছে সেখানেই প্রতিরোধের শিকার হয়েছে। কেউ তাদের আপন করে নেয়নি। ভাসমান এই যাযাবরদের বিরুদ্ধে একসময় গোটা ইউরোপজুড়েও তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইহুদিরা ফিলিস্তিনের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে। তবে মজার বিষয় হলো, ব্রিটিশরা ইহুদিদের ইউরোপ থেকে বের করে দিলেও ফিলিস্তিন দখল ও অবৈধ জারজ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠায় কিন্তু ঠিকই পূর্ণ সহায়তা করেছে। ব্রিটিশদের এই পূর্ণমাত্রার মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায়  ইহুদিরা হাজার বছরের মুসলিম অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের বুক ফিলিস্তিনকে জবর দখল করে তার পূর্বাংশে একটা ইহুদি রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটায়।

ইহুদি নেতা ডেভিড বেন গুরিয়ন ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ‘ইসরাইল’ নামে এক নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন। পরের মাসেই ইহুদিরা জেরুজালেমের পশ্চিমাংশের উপর আঘাত হানে, সেখানকার অধিবাসীদের তাদের নিজ জন্মস্থান ও পৈত্রিক ভিটা বাড়ি থেকে বলপূর্বক তাড়িয়ে দিয়ে তা দখল করে নিজেদের রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করে। এভাবেই একের পর এক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে নিতে থাকে ইহুদিরা। ১৯৬৭ সালে ইহুদিরা জেরুজালেমের বাকি অংশটুকুও নিরীহ ফিলিস্তিনিদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়। এবং সর্বশেষ ১৯৮০ সালে আন্তর্জাতিক সকল মতামতকে উপেক্ষা করে ‘জেরুজালেম আইন’ পাসের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমকে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নেয় এবং গোটা অঞ্চলকে নিজেদের রাজধানী বলে ঘোষণা করে। আশ্চর্যের বিষয় হলো,  ইহুদিরা খুব ঠাণ্ডা মাথায় ধীরে ধীরে এভাবে একের পর এক ফিলিস্তিনের অঞ্চলগুলো দখল করে নিলেও বিশ্বমুসলিম উম্মাহর কখনোই টনক নড়েনি। মুসলিম শাসক ও লিডাররা বরাবরের ন্যায় নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিভিন্ন অঞ্চলে সামান্য মাত্রার কিছু গতানুগতিক আন্দোলন হলেও মূলত বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা ব্যাপক ও শক্তিশালী কোন প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ গড়ে তুলতে পারেননি। তাই যা হওয়ার তাই হলো। ইহুদিরা বুঝে গেল যে  আমাদের কিছুই করতে পাবেনা। বেড়ে গেলো এদের আরো বর্বর পৈশাচিকতা ও ফিলিস্তিনিদের বহিষ্কারের নাঙ্গা উম্মাদনা।

তাই বলছিলাম, এখন জেরুজালেমকে ট্রাম্পের ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণায় খুব একটা কিছু আসে যায়না। কার্যত জেরুজালেম বিগত ৩৭ বছর আগ থেকেই তো ইহুদিদের দখলে আছে। আরেকটু ক্লিয়ার করে যদি বলি তাহলে বলবো, এখন আর এতো হাওমাউ কেঁদে কি লাভ? যখন কিছু করার ছিলো তখনই তো করা হয়নি। ১০০ বছর আগেও যদি মুসলিমরা জেগে ওঠতো, নিজেদের প্রথম কিবলাকে উদ্ধারে সর্বস্ব বিলিয়ে ফিলিস্তিন মুক্তির জিহাদের ঝাঁপিয়ে পড়তো, অন্তত ৩৭ বছর পূর্বেও যদি ইহুদিদের টুটি চেপে ধরতো তাহলে হয়তো আজ আর ২০১৭ এর এই প্রেক্ষাপট ও ইহুদীআস্ফালন আমাদের দেখতে হতোনা।

অনেকে হয়তো ভাবছেন, ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষনা দেওয়ার পর পরই প্রেসিডেন্ট এরদোগান জরুরী ফোনালাপ করেছেন। পাকিস্তান আগামী ১২ তারিখ ইস্তাম্বুলে ওআইসির জরুরী মিটিং তলব করেছে। জর্দান জেরুজালেম ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করেছে, মিশর জেরুজালেমে আমেরিকান এ্যাম্বাসির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, অন্যান্য মুসলিম নেতারাও হুঙ্কার ছাড়ছেন, আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে বিশ্বব্যাপী, সুতরাং এবার বেটা ইহুদিদের আর রক্ষা নেই, চরম বদলা নেওয়া হবে এবার। পারলে বেটাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর নাম নিশানা পর্যন্ত পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে ফেলা হবে। কারণ এটা ১৯৬৭ নয়, এটা ২০১৭। আমার কাছে মনে হয় এসব কেবলই হাস্যকর ও রাজনৈতিক শিশুসুলভ বচন। বরং চরম আবেগি ও বোকামিপূর্ণও বটে। এরা এটম ও প্রযুক্তির এই যুগে একটু বক্তৃতা, বিবৃতি, মানব্বন্ধন, মিছিল, মিটিং আর হুমকি ধামকি দিয়েই পৃথিবীর সব জয় করে ফেলতে চায়, বক্তৃতার মঞ্চে তর্জন গর্জন করে সস্তা আবেগের জিহাদ করে তৃপ্তির ঢেকুর গিলে! হায়রে আত্মভোলা মুসলিম! কবে আর তোমার অচেতন দেহে চেতনার হুশ ফিরবে? আশার সঙ্গে বাস্তবতার সম্পর্ক যে তোমার বড়ই নড়বড়ে! তুমি তো এখনো চিনতেই পারোনি কে তোমার প্রকৃত শত্রু আর কে তোমার নির্ভেজাল মিত্র? কে আজ মুসলিমের কাণ্ডারি?

হ্যাঁ আমিও আশাবাদী মুসলিম। তবে কারো কোথায় আবেগি ও বিশ্বাসী নই। বাস্তবতা বিবর্জিত কোন দিবা স্বপ্ন আমি লালন করিনা। আমি বিশ্বাস করি বিশ্বের মুসলিমরা যদি আবারো এক ও নেক হয়ে সর্বাত্মক জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়ে ইহুদিরা লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে। এজন্য উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। এখন একমাত্র একটি পথ কেবল খোলা রয়েছে, সেটি হলো বিশ্বমুসলিম ঐক্য গড়ো, আলকুদস মুক্ত করো। যতদিন না এ ঐক্য হবে ততদিন আলকুদস মুক্তির আশা সুদূর পরাহতই থেকে যাবে। আশার জায়গাটা আমার এখানেই। আমি ভঙ্গুর বিশ্বাস নিয়েও বাচতে চাইনা। এই মুহূর্তে আমার আশার আলো আরও একটি জায়গায়, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী আধ্যাত্মিক নেতা, ইসরাইলের বোমার আঘাতে শহীদ, শায়খ আহমদ ইয়াসীনের একটি বাণী আজ মনে পড়ছে, তিনি কুর’আনে বর্ণিত অতীত সম্প্রদায়গুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করে বলেছিলেন,“২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলের অস্তিত্ব বিলীন হবে”। আমার যেন কেবলই মনে হচ্ছে, তবে কি ইসরাইলের ইহুদিরা সে দিকেই খুব দ্রুত ধাবিত হচ্ছে?

সবশেষে একাদশ শতাব্দীর খ্রিষ্টান সেনাপতি কেনার্ডের একটি বক্তব্যের মাধ্যমে আজকের এই নিবন্ধের ইতি টানতে চাই, কেনার্ডের এই বক্তব্যকে যদি আমরা হৃদয় দিয়ে বাস্তবিক পক্ষেই অনুভব করতে পারি, তাহলে আমরা এ অনুধাবনও করতে পারবো যে, আসলে কেন আজ বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের এই দুর্দশা। কেন আজ আমরা ধরাময় নির্যাতিত, নিপীড়িত, অত্যাচারিত, নিষ্পেষিত ও আপনভূমি হতে বহিষ্কৃত। আসুন শুনি কেনার্ড কি বলেছিলেন: “আমাদের সম্পদ আছে। টাকা দিয়ে মৌলভী তৈরী করে আমরাও মিশরের মসজিদে বসিয়ে দিতে পারি। তুমি (মুনাফিক রজবকে) শুনলে খুশি হবে, আমরা অনেক খ্রিষ্টানকে কুরআন ও ইসলামের জ্ঞানে পারদর্শী করে তুলেছি। ওদেরকে সহজেই মুসলিম এলাকায় পাঠিয়ে ইমাম হিসেবে বিভিন্ন মসজিদে ঢুকিয়ে দেয়া যাবে। সালাহউদ্দীনের আইউবীর বিরুদ্ধে কিছু বলার প্রয়োজন নেই ওদের। ওরা ওয়াজের মাধ্যমে মানুষকে কুসংস্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ করে ফেলবে। ইসলামের সঠিক চেহারা যাতে সাধারণ মানুষ দেখতে না পায় সে জন্য সঠিক ইসলামের সাথে ভেজাল মিশিয়ে দেবে ওরা। ভেবে দেখুন, দু’বছর আগে কায়রো শহরে ক’টা প্রমোদভবন ছিল, আর এখন ক’টা? বিত্তশালী পরিবারের তরুণ-তরুণীরা অশ্লীলতা আর বেহায়াপনায় ডুবে যায়নি? …দুটো মসজিদে রয়েছে আমাদের পাঠানো ইমাম। ওরা ইসলামের রুপ পালটে দিচ্ছে। জিহাদের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করছে ভিন্নভাবে। ওখানে আলেমের ছদ্মবেশ নিয়ে আছে আমাদের বেশ কিছু লোক। ওরা যুদ্ধের বিরুদ্ধে মুসলমানদের বোঝাচ্ছে। বন্ধু এবং শত্রুর ধারণা পাল্টে দিচ্ছে। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি, ক’বছর পর ওরা নিজেরা মুসলমান বলে গর্ব করলেও ওদের মনমানসিকতায় থাকবে খ্রিষ্টানদের সভ্যতা-সংস্কৃতি। ওরা কথা বলবে আমাদেরই ভাষায়, চিন্তা করবে আমাদেরই মস্তিস্ক দিয়ে”।

যাকারিয়্যা মাহমূদ
এমফিল গবেষক, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব।
সম্পাদক, ডেইলি মাই নিউজ ও প্রবাসীকাল ডটকম।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Close